প্রাথমিক চিকিৎসা, সুস্থ্য থাকুন, স্বাস্থ্য টিপস, স্বাস্থ্য তথ্য

জন্ডিসের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

জন্ডিসের কারণ লক্ষণ ও চিকিৎসা (Jaundice)

Jaundice

যকৃতের নিচেই পিত্ত থলি অবস্থান করে। পিত্তথলি হেত পিত্তনালী দিয়ে পিত্তরস পাকস্থলীর ডিওমোনামের ভিতর দিয়ে এসে খাদ্যবস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়। যদি কোন কারণে পিত্ত বাধা প্রাপ্ত হয় তা হলে পিত্তরস পিত্তথলীতে জমে বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় শরীরে প্রবাহমান রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। এ অবস্থায় হাত, পা , মুখমন্ডল, জিহ্বা, চক্ষু, এমনকি নখ পর্যন্ত হলুদ বর্ণ ধারন করে। এটাই জন্ডিস। A.B.C.E ৪/৫ ধরণের জন্ডিস দেখা যায়।

কারণ

  • দীর্ঘদিন পাকস্থলী সংক্রান্ত বা যকৃত সংক্রান্ত জটিল রোগে ভোগা।
  •    যকৃতে লোহিত রক্ত কণিকা হতে পিত্ত তৈরীতে ত্রুটি হলে।
  •    পিত্ত পাথুরী রোগ, যকৃত বা পিত্তনালীর উপরে কোন প্রবৃদ্ধি বা টিউমার হলে।
  • পিত্ত নালী সরু (Stricture) হওয়া।
  • পিত্ত থলিতে জীবাণু ঢুকে, ফোঁড়া বা পুঁজ সৃষ্টি হলে।
  •    কোন কারণে পিত্তরস বেশি পরিমাণে নিঃসরণ হলে।
  •    পিত্তের স্বাভাবিক পরিবর্তনের ত্রুটি হলে।
  •    বেশি মাত্রায় চা, পান, ধূমপান, মদ বা অ্যালকোহল সেবন এবং নেশাকর ঔষধে প্রতিক্রিয়া হলে।

     সিয়াম বিলিরবিন ও সিয়াম এলকালাইন ফসফেট বৃদ্ধি প্রাপ্ত হবে।

প্রকারভেদঃ

১. হেমোলাইটিক জন্ডিস ( Haemolytic Jaundice )

শরীরে প্রবাহমান রক্তে লোহিত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে বিলরুবিন রূপে সঞ্চিত হয় । যদি কোন কারণে বিলিরুবিন রক্তে অধিক পরিমাণে সঞ্চিত হতে থাকে এবং যকৃত সুস্থ অবস্থায় যদি রক্তে সঞ্চিত বিলিরুবিন যকৃতের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করতে না পারে তা হলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে হেমোলাইটিক জন্ডিস হয়।

২. হেপাটোসেলুলার জন্ডিস ( Hepatocellular Jandice )

যকৃতের জীবাণু দূষণে বা যে কোন কারণে যকৃতে সঞ্চিত বিলিরুবিন পিত্তথলিতে পৌঁছাতে না পারলে যকৃতের কোষ নষ্ট হয়ে পড়ে ফলে হেপাটোসেলুলার জন্ডিস হয়।

৩. কলিষ্টাটিক বা অবসট্রাকটিক জন্ডিস ( Cholestatic or obstructive Jandice )

পিত্তরসের ঘনত্ব বাড়লে পাথুরী রোগে ভুগতে থাকলে অনেক সময় পিত্তরস নালীর ভিতর টিউমার হলে-পিত্তরস পিত্ত থলি হতে বের হয়ে খাদ্যবস্তুর সাথে মিশতে পারে না। ফলে রক্তের বিলিবিরুন পিত্ত থলিতে না এসে রক্তেই বাড়তে থাকে। এ অবস্থাকে কালিষ্টাটিক বা অবস্ট্রাককটিভ জন্ডিস বলে।

লক্ষণ

  • পেট ফাঁপা, পাতলা পায়খানা এবং অরুচি থাকে।
  • মলে পিত্ত থাকে না ফলে মল ফ্যাকাশে হয়।
  • মূত্র সরিষার তৈলের মত আবার কখনও হলুদ রংয়ের হয়।
  • মুখ, চোখ, নখ, থুথু,  রোগী চিন্তিত হয়ে পড়ে।
  • রোগীর নাড়ী (Pulse) ধীরে চলে। রক্তচাপ কমে যায়।
  • দীর্ঘদিন ভুগতে থাকলে খিচুনী, অজ্ঞান হওয়া, প্রলাপ বকা এবং সঙ্গহীন হয়ে পড়ে।
  • ডান পাশের পেটে ঠাসা দিলে যকৃত (Liver) শক্ত ও কঠিন (Rigidity) বোঝা যায় এবং পেটে ব্যাথা হতে পারে।
  • কখনও কখনও শরীরের বিভিন্ন স্থান হতে রক্ত প্রাণ বের হয়।
  • সারা শরীরে এলার্জীর মত কালো দাগ (Purpuric Spot) দেখা দেয়।
  • দীর্ঘদিন ভুগলে রোগী নিলাভ (Cyanosis) হয়ে যায় এবং বমি বেশি হয়।

দ্রব্যগুণ চিকিৎসা

  • ২১ দিন কাঁচা ও পাকা পেপে বেশী বেশী খেতে হবে।
  • কাঁচা ও পাকা শরবত করে কিংবা পুড়িয়ে শরবত খেতে হবে ইসব গুলের ভূসির শরবত খেতে হবে।
  •  আমলকী, বহেরা এবং হরতকীর ভেজানো পানি ১ কাপ করে দিনে ২/৩ বার ২১ দিন খেতে হবে।
  •   নরম ভাত বা জাউ খেতে হবে।
  •   সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে এবং প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে।

About Goodmorning Aid

Goodmorning aid is a Bangladeshi Health E-Commerce site with wide range of natural homeopathic, Unani and Ayurvedic products. We are safe and trusted.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *